নিজস্ব প্রতিবেদক: চেক ডিজঅনারের চারটি মামলায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম আমলী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছেন হক গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আদম তমিজি হক (৪৮)। একই সঙ্গে জামিন পেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম (সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার, ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস)।
সোমবার (২০ এপ্রিল) কুমিল্লার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে তারা জামিন আবেদন করেন। আদালত চারটি মামলায় তাদের জামিন মঞ্জুর করেন বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
আইনজীবীরা জানান, ১৮৮১ সালের নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮/১৪০ ধারায় এসব মামলা দায়ের করা হয়। মামলাগুলোর (সিআর-৩৬৪/২৫, ৩৬৫/২৫, ৩৬৬/২৫ ও ৩৬৭/২৫) প্রধান আসামি আদম তমিজি হক। এছাড়া প্রতিটি মামলায় সহ-আসামি হিসেবে রয়েছেন মো. রেজাউল করিম এবং হক গ্রুপের হেড অব প্রজেক্ট অ্যান্ড বিজনেস কন্ট্রোল জাহিদুল ইসলাম বিদ্যুৎ।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত বছরের ৩০ এপ্রিল তিনজনের বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, এনসিসি ব্যাংকের ১২টি চেকের মাধ্যমে এক কোটি ৫৭ হাজার ৫৫০ টাকার লেনদেন করা হলেও পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় গত বছরের ফেব্রুয়ারিতেই চেকগুলো ডিজঅনার হয়।
এছাড়া আল-মোস্তফা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ (প্রা.) লিমিটেডের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেনে আদম তমিজি হক বিভিন্ন সময়ে মোট ৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকার ৬৮টি চেক প্রদান করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবগুলোতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সব চেকই প্রত্যাখ্যাত হয়। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটি নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলায় মোট ১৯টি মামলা দায়ের করে।
প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার ওমর ফারুক অভিযোগ করেন, আসামিরা জেনেশুনেই পর্যাপ্ত অর্থ না রেখেই চেক ইস্যু করেছেন, যা সরাসরি প্রতারণার শামিল। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের প্রাপ্য অর্থ আদায়ে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি এবং পরবর্তী ধাপেও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত রাখব।”
অপরদিকে, প্রতিষ্ঠানের আইনজীবী নাজমুল আলম বলেন, মামলাগুলো এখনো বিচারাধীন রয়েছে। তবে দীর্ঘসূত্রতায় বাদীপক্ষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।