• ঢাকা |

স্পেনে সান্ত জর্দি দিবস: গোলাপ ও বইয়ে ভালোবাসার উৎসব


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

ফিচার প্রতিবেদন: ইউরোপের দেশ স্পেনে ২৩ এপ্রিল মানেই এক অনন্য আবেগের দিন। প্রতিবছরের মতো এবারও দেশজুড়ে উদযাপিত হলো ঐতিহ্যবাহী সান্তজর্দি দিবস (Sant Jordi Day), যা স্থানীয়ভাবে ভালোবাসা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক অপূর্ব মিলনমেলায় পরিণত হয়।

 

এই দিনটিকে ঘিরে শহরের রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং জনসমাগমস্থলগুলো রঙিন হয়ে ওঠে বই ও লাল গোলাপে। একদিকে বইয়ের স্টল, অন্যদিকে ফুলের সুবাস—সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক ব্যতিক্রমী পরিবেশ, যেখানে মানুষ একে অপরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে উপহার বিনিময়ের মাধ্যমে।

 

ঐতিহ্যের শিকড় খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হয় সান্ত জর্দির কিংবদন্তিতে। জনশ্রুতি আছে, বীর যোদ্ধা সান্তজর্দি (Sant Jordi) এক ভয়ংকর ড্রাগনকে পরাজিত করে এক রাজকন্যাকে রক্ষা করেন। সেই ড্রাগনের রক্ত থেকে জন্ম নেয় একটি লাল গোলাপ, যা তিনি রাজকন্যাকে উপহার দেন। সেখান থেকেই ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে গোলাপ দেওয়ার রীতি চালু হয়।

 

সময়ের সঙ্গে এই ঐতিহ্য যুক্ত হয় বিশ্ব সাহিত্য উদযাপনের সঙ্গে। ইউনেস্কো ২৩ এপ্রিলকে বিশ্ব বই দিবস হিসেবে ঘোষণা করলে সান্ত জর্দি দিবস নতুন মাত্রা পায়। ফলে এখন বই ও গোলাপ—দুটিই এই দিনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

 

বর্তমানে এই উৎসব শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের মধ্যেও বই ও ফুল বিনিময়ের মাধ্যমে সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় করা হয়।

 

এদিকে এবারের সান্ত জর্দি দিবস বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত স্প্যানিশ নাগরিক ও কবি আনোয়ার মাষ্টারের জন্য হয়ে উঠেছে বিশেষভাবে স্মরণীয়। উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত বইমেলায় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির স্টলে স্থান পেয়েছে তাঁর লেখা দুটি বই—“দুঃখের ফেরিওয়ালা” এবং “ঐতিহাসিক স্পেন”।

 

মেলায় উপস্থিত স্থানীয় মেয়র মিরেয়া গনজালেজ সায়েজ লেখকের হাত থেকে বই দুটি উপহার হিসেবে গ্রহণ করেন। প্রবাসে কর্মজীবনের পাশাপাশি শিল্প ও সাহিত্য চর্চায় কবি আনোয়ার মাষ্টারের নিষ্ঠা ও একাগ্রতা দেখে মেয়র লেখকের ভূয়সী প্রসংসা করেন।

 

বই মেলায় কেন্দ্রীয় সরকারের সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির মহাপরিচালকসহ অনেকেই বই দুটি হাতে নিয়ে লেখককে অভিনন্দন জানান। তাদের এই উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা লেখককে ভবিষ্যতে লেখালেখি চালিয়ে যেতে আরও অনুপ্রাণিত করবে।

 

সব মিলিয়ে, সান্ত জর্দি দিবস আবারও প্রমাণ করেছে—ভালোবাসা, সাহিত্য ও ঐতিহ্য একসঙ্গে মিললে তা কেবল একটি উৎসব নয়, বরং মানুষের হৃদয়ের গভীরে জায়গা করে নেওয়া এক অনুভূতির নাম।