
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃত্ব ও কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিরোধ দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি অংশ নির্বাচনের মাধ্যমে পূজা উদ্যাপন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে কমিটির নেতৃত্বে থাকা সন্তোষ দেব নাথ নির্বাচন ছাড়াই পুনরায় সভাপতি হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে সন্তোষ দেব নাথের ব্যাপক প্রভাব ছিল। তার এক ভাতিজা ঢাকা কলেজসহ একটি বেসরকারি কলেজের ছাত্রলীগের সরকারি দপ্তরে প্রভাব বিস্তার এবং নিজের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় সমাধানের চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সন্তোষ দেব নাথের পরিবারের একাধিক সদস্য বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও সন্তোষ দেব নাথকে অষ্টগ্রাম থানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, ভূমি অফিস, আদালতসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে নিয়মিত যাতায়াত করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রায় ১৭ বছর আগে অষ্টগ্রাম বড় বাজারে পশু হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত জায়গার একটি অংশ রাতের আঁধারে ধাপে ধাপে দখল করা হয়। এ সময় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার মাধ্যমে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো দলিল, সরকারি নথি বা আর্থিক লেনদেনের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এ প্রতিবেদনের কাছে পাওয়া যায়নি।
জায়গাটির মালিকানা, সরকারি খাস জমির অবস্থান এবং দখলের ইতিহাস জানতে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস ও অন্যান্য সরকারি নথি যাচাই প্রয়োজন। স্থানীয়দের ভাষ্য, তৎকালীন সময়ে সন্তোষ দেবনাথ অষ্টগ্রাম উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি ছিলেন। সেই পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অভ্যন্তরে পূজা উদ্যাপন কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আট ইউনিয়ন ও আহ্বায়ক কমিটির প্রতিনিধিসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি অংশ দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটিয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন পূজা উদ্যাপন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের নিয়ন্ত্রণে নয়-সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহণ ও ভোটের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠন করা হোক। এতে সংগঠনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারকেন্দ্রিক প্রভাব তৈরি হয়েছিল। কমিটির বিভিন্ন পদে নিজেদের অনুসারী ও স্বজনদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই পদ্ধতিতে নির্বাচন ছাড়াই পূর্বের নেতৃত্ব বহাল রাখার চেষ্টা করা হলে নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে। তবে সন্তোষ দেব নাথের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বলছেন, পূজা উদ্যাপন কমিটি কোনো ব্যক্তি, পরিবার কিংবা রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়। এটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার একটি সংগঠন। তাই স্বচ্ছতা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই নতুন কমিটি গঠন করা উচিত। তাদের দাবি, অষ্টগ্রাম উপজেলার আট ইউনিয়নের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করে ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত করা হোক। একই সঙ্গে অতীতে কমিটি গঠন, আর্থিক লেনদেন, সরকারি জায়গা দখল এবং বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।