
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কাদা-মাটির গ্রামীণ পথে ভিজে স্কুলে যাওয়া এক ছেলেই আজ শত শত মানুষের কর্মসংস্থানের উৎস, অসংখ্য অসহায় মানুষের ভরসাস্থল। তিনি মোঃ নুর আলম—নাইশা এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তাঁর জীবনের গল্প সংগ্রাম, স্বপ্ন আর মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত।
*শৈশবের সংগ্রাম
১৯৮১ সালে লক্ষ্মীপুর জেলার বিনোদপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন নুর আলম। মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা এই তরুণের শিক্ষাজীবন শুরু হয় বিনোদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। কাদা-মাটি আর বর্ষার পানিতে ভিজে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া ছিল তাঁর শৈশবের বাস্তবতা। পরে পালপাড়া ডি.এম. উচ্চ বিদ্যালয়, পাঁচপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পড়াশোনা করে তিনি এগিয়ে যান উচ্চশিক্ষার পথে। মায়ের স্বপ্ন আর নিজের দৃঢ়তা তাঁকে পৌঁছে দেয় নতুন দিগন্তে।
*কর্মজীবনের শুরু
ডিগ্রি সম্পন্ন করে যোগ দেন আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএসএআইডি-তে কর্মকর্তা হিসেবে। ২০০১ সালে ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়ে একই সংস্থায় আইটি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কিন্তু উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন তাঁকে নতুন পথে নিয়ে যায়। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন নাইশা এন্টারপ্রাইজ, কর্পোরেট কার রেন্টাল প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এটি প্রায় ৬০০ মানুষের জীবিকার উৎস। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠা করেছেন নাইশা মোটরস, টি.এন.এন আউটসোর্সিং সার্ভিস, নাইশা ওয়ার্কশপসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান।
*মানবিকতার বাতিঘর
নুর আলম বিশ্বাস করেন—
“মানুষের জন্য বাঁচতে পারাই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা।” এই বিশ্বাস থেকেই তিনি অসহায়, দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন নিরন্তর। নাইশা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর মাধ্যমে অসংখ্য পরিবারকে সহায়তা করছেন। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কাজ করছেন সেবক কেন্দ্রীয় কমিটি-র সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। প্রতিষ্ঠা করেছেন মোহাম্মদুল্লাহ আয়েশা বেগম নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা। এছাড়াও বৃহত্তর নোয়াখালী জনকল্যাণ ফোরাম, চন্দ্রগঞ্জ থানা জনকল্যাণ সমিতি ও বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে সমাজসেবায় অবদান রাখছেন।
*নেতৃত্ব ও স্বীকৃতি
দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোতেও রয়েছে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা। তিনি বাংলাদেশ গাড়ি আমদানিকারক সমিতি (বারবিডা)-র সদস্য। বর্তমানে তিনি ঢাকা চেম্বার স্ট্যান্ডিং কমিটি অন ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড ট্রেড পলিসি–২০২৫-এর জয়েন্ট কনভেনার। তাঁর কর্মদক্ষতা ও সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন নানা সম্মাননা। তবে তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় পুরস্কার মানুষের ভালোবাসা।
*প্রেরণার প্রতিচ্ছবি
গ্রামীণ অজপাড়াগাঁ থেকে উঠে এসে নুর আলম আজ প্রমাণ করেছেন—সততা, পরিশ্রম আর স্বপ্ন থাকলে অসম্ভব কিছু নেই। তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছে তিনি অনুপ্রেরণা, আর সাধারণ মানুষের কাছে তিনি মানবিক ভরসাস্থল।
বিনোদপুরের এই গর্বিত সন্তান তাই আজ কেবল সফল উদ্যোক্তা নন, বরং মানবতার শিখরে পৌঁছানো এক আলোর মানুষ নুর আলম।
সম্পাদনায়ঃ আমিনুল ইসলাম